দিন পনেরো পর ফের ফিরেছি। তিন দিন আগেই এঁরা রুলেতেনবুর্গে১ এসে জুটেছেন। ভেবেছিলাম, আমার জন্যে কী অধীর হয়েই না অপেক্ষা করবেন। সেটা ভুল। জেনারেল আমার দিকে চাইলেন নিস্পৃহ দৃষ্টিতে, কয়েকটা কথা কইলেন ওপরওয়ালার সুরে, তারপর পাঠিয়ে দিলেন তাঁর বোনের কাছে। বোঝা গেল যেখান থেকে হোক কিছু টাকা জুটিয়েছেন। আমার চোখের দিকে চাইতে জেনারেলের খানিকটা যেন লজ্জা হচ্ছে বলেই মনে হল।
মারিয়া ফিলিপোভনা ভয়ানক ব্যস্ত, আমার সঙ্গে কথা কইবার সময়ই প্রায় হল না। টাকাটা অবশ্যি নিলেন, গুনে গুনে দেখলেন, আমার বিবরণটাও সবই শুনলেন। ডিনারে আসবেন মেজেনৎসভ, সেই ফরাসিটা, আর কে একজন ইংরেজ, টাকা পাওয়ামাত্রই ডিনার পার্টি দিতে হবে বৈকি, এবং খাঁটি মস্কোর ঐতিহ্যে। পলিনা আলেক্সান্দ্রভনা আমায় দেখতে পেয়ে কোথায় যেন চলে গেল। বোঝাই যায় যে ইচ্ছা করেই। কিন্তু আমাদের একটা বোঝাবুঝি হওয়া দরকার। অনেক কথা জমেছে।হোটেলের চার তলায় একটা ছোট্ট কামরায় আমার ঠাঁই হল।