পল বুঝি আজ রাতে আবার বাইরে বেরিয়ে পড়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। পাশের ঘর থেকে তার মা তার গোপন পদচারণার শব্দ শুনতে পাচ্ছে। পল হয়তো তার মায়ের প্রদীপ নিবিয়ে শুয়ে পড়া পর্যন্ত প্রতীক্ষা করছে। মা শুয়ে পড়লেই সে চুপিচুপি বেরিয়ে পড়বে। মা তার ঘরের প্রদীপ নিভিয়ে দেয়, কিন্তু শুতে যায় না। পাশের ঘরের দরজা ঘেঁষে বসে গৃহপরিচারিকার জীর্ণ শীর্ণ হাতদুটো একত্রে জড় করে দু'হাতের বুড়ো আঙ্গুলদুটো শক্তি-সাহস সঞ্চয়ের আশায় পরস্পরের উপর চেপে ধরে।
তবু প্রতিমুহূর্তে তার মানসিক অস্বস্তি বাড়তে থাকে। তার ছেলে পুরনোদিনের মতন এবার শান্ত নির্বিকারচিত্তে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করবে বা শুয়ে পড়বে, তার মানসিক অস্বস্তি তার এই অদম্য আশাকে দমিয়ে দেয়। কয়েক মিনিট সত্যিই তরুণ পুরোহিতের পদচারণার শব্দ শোনা যায় না। মা নিঃসঙ্গবোধ করে। বাইরে প্রবহমান বাতাসের ধ্বনি আর যাজকভবনের পিছনে শৈলশিরায় প্রবাহিত বৃক্ষসারির শনশন ধ্বনি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। বাতাসের ভয়ঙ্কর প্রচণ্ডতা নেই, তবু মনে হয় এই একঘেয়ে অবিরাম ধ্বনি বুঝি ক্যাঁচক্যাঁচ মচমচ করে সারা বাড়িটাকে গ্রাস করে দুমড়ে মুচড়ে উপড়ে ফেলবে।