ভদ্রমহিলার বয়স ষাটও হতে পারে আবার পঁয়ষট্টিও। আমার স্বাস্থ্য সমিতির ভ সাঁতার কাটার পুলের পাশেই ডেকচেয়ারে বসে তাকে দেখছিলাম। এক বহুতলের সবচেয়ে উপরের তলায় সমিতিটি অবস্থিত। এখান থেকে গোটা প্যারিস শহরের দিগন্তপ্রসারিত দৃশ্য দেখা যায়। আমি অধ্যাপক আভেনারিয়াসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তার সঙ্গে কখনো কখনো আড্ডা মারি। সে আসতে দেরি করছিল আর আমিও ভদ্রমহিলাকে দেখেই যাচ্ছিলাম। পুলে সে একাই ছিল। কোমর সমান জলে দাঁড়িয়ে সে সাঁতার শিক্ষকের দিকে ঊর্ধ্বমুখে চেয়েছিল আর সাঁতারের পোশাকে সজ্জিত শিক্ষকটি তাকে আদেশ দিচ্ছিল। তাকে পুলের কিনারা ধরে ঝুলে থাকতে হবে এবং জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে।
সে খুব আন্তরিকভাবে ও গুরুত্বসহকারে তা পালন করার চেষ্টা করছিল। মনে হচ্ছিল জলের তলা থেকে যেন একটি পুরনো বাষ্পচালিত ইঞ্জিন সাঁই সাঁই করে শব্দ করছে (যাদের কাছে বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের কথা অজানা তাদের কাছে বহুদিনের বিস্মৃত এই আলস্য ভরা শব্দের বর্ণনা করতে চাইলে কোনো বৃদ্ধার পুলের ধারে জোরে জোরে শ্বাসগ্রহণ ও শ্বাসত্যাগের বর্ণনা করা ছাড়া শ্রেয় কোনো উপায় নেই)।