১৮৫৯ সালের মে মাসের বিশ তারিখের কথা। সড়কের উপরকার একটা গ্রাম্য সরাইখানার ভেতর থেকে নিচু দেউড়ির ধাপ বয়ে টুপি-ছাড়া খালি মাথায় বেরিয়ে এলেন এক জমিদারবাবু। তিনি তাঁর ভৃত্যকে জিগ্যেস করলেন, 'কী হল পিওতর, এখনও ওদের কোনও পাত্তা নেই?'
জমিদারবাবুটির বয়স বছর চল্লিশেকের কিছু ওপরে হবে। তাঁর পরনে চৌখুপি পাতলুন, গায়ের ওভারকোট ধূলিধূসরিত। ভৃত্যটি অল্পবয়সী। গালদুটো তার ফোলা-ফোলা, চিবুকে সাদাটে রোঁয়া-রোঁয়া সামান্য দাড়ির আভাস, চোখজোড়া ছোট-ছোট, ঘোলাটে। তার সবকিছু- পমেটমমাখা বিচিত্রবর্ণের কেশবিন্যাস, এক কানে ফিরোজ মণির একটা মাকড়ি, তার বিনীত ভঙ্গি- এককথায়, সব মিলে এটাই প্রকাশ পাচ্ছিল যে সে রীতিমতো হাল আমলের, উন্নত প্রজন্মের ভৃত্য।
প্রসন্নচিত্তে পথের প্রভুর প্রশ্নের উত্তরে ভৃত্য প্রসন্নচিত্তে পথের ওপর নজর বুলিয়ে নিয়ে উত্তর দিল, 'না হুজুর, এখনও কোনও পাত্তা নেই।'
'পাত্তা নেই?' মনিব আবার জিগ্যেস করলেন।