শেষ কালে আমি হলাম একজন শিক্ষার্থী। নগরের প্রধান রাস্তার উপরে এক শৌখিন জুতার দোকানের একজন বয়।
আমার মনিব অনেকটা বেঁটেখাটো ধরনের চেহারার লোক। গোলগাল চেহারার মানুষটি। বাদামি রেখায় ভরা মুখ। সবুজ মতো দাঁত। চোখ পানসে ঘোলাটে। মনে হলো লোকটা অন্ধ। আমি ভেংচি কাটলাম নিশ্চিত হবার জন্যে। শান্ত কড়া গলায় মনিব বললো, 'এই মুখ ভেংচাবি না বলে দিচ্ছি। ঐ দুটো ঘোলাটে চোখ আমায় দেখছে, এ-কথা ভাবতেই রাগ হয় আমার।'
বেঁটে হয়তো বা আন্দাজেই ধরে নিয়েছে যে আমি ভেংচি কাটছি। বিশ্বাস করতে পারি না। আবার বলে, 'একবার বলে দিয়েছি না যে মুখ ভেংচাবি না।' আরো ধীর শান্ত গলায় মনিব বলে। পুরু পুরু ঠোঁট দুটো যেনো নড়েও না।
'আর ঐ হাত চুলকানো বন্ধ করো।'
মনে হয় ওর শুকনো হিসহিসে গলার স্বর যেনো আমার দিকে। গুড়ি মেরে এগোচ্ছে, 'কাজ করছিস শহরের সদর রাস্তায় সেরা জুতার দোকানে, সেটা খেয়াল রাখিস! বয়কে দোরগোড়ায় প্রস্তরমূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হবে...'