এতখানি সংশয় মনে নিয়ে আমি আর কোনো উপন্যাস রচনা শুরু করিনি। এই কাহিনীকে উপন্যাস বলছি, তার কারণ আর কি নাম দেওয়া যেতে পারে তা স্থির করতে পারছি না। কাহিনী আমার সামান্য, আর সে-কাহিনীর পরিণতি বিবাহ বা মৃত্যুতে নয়। মৃত্যুতেই সকল কিছুর অবসান ঘটে, কাহিনীরও তাই যথোচিত উপসংহার। অনেক কাহিনীর আবার সুষ্ঠু পরিণতি বিবাহে, আর প্রচলিত রীতি অনুসারে মিলনান্তক কাহিনীকে অবজ্ঞা করতে বিলাসী সমাজের চক্ষুলজ্জা হয়।
সাধারণ মানুষের সহজাত বুদ্ধি বিশ্বাস করায় যে, এতদ্বারা সব কিছুই বলা শেষ হলো। যখন যত প্রকার সম্ভাব্য ঘটনা বিপর্যয়ের পর নর-নারী মিলিত হয়, সেইকালে তারা জৈব-ক্রিয়া শেষ করেছে। তখন কৌতূহল জাগায় যে-পুরুষের আগমন সম্ভাবনা, সেই উত্তর-পুরুষে। আমি কিন্তু আমার পাঠকদের শূন্যে দোদুল্যমান রেখেছি। সুদীর্ঘ বিরতির মাঝে মাঝে আমার জীবনে এক ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলাম, তাঁরই স্মৃতিকথা দিয়ে এই গ্রন্থ রচনা করেছি, বিরতির ফাঁকে ফাঁকে তাঁর জীবনে কি ঘটেছিল, সে বিষয় আমার জ্ঞান খুবই কম।