১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামিক বিপ্লব সফল হবার পর এর প্রতিক্রিয়া যখন ক্ষীণ হয়ে আসছিল সেখানেই শাহদের শাহ বইটির শুরু। পোলিশ প্রেস এজেন্সির সাংবাদিক রিশার্ত কাপুসচিন্সকি হোটেল রুমে বসে নিজের খাতায় করা নোট, ক্যাসেট, পুরনো খবরের কাগজ, বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করা ফটোগ্রাফ ঘেঁটে দেখছিলেন। ইরানের শেষ শাহ রেজা শাহ পাহলভির শেষ দিনগুলোর কথা উঠে এসেছিল অত্যাচারিত ইরানিদের জবানবন্দিতেও। তেহরানে গিয়ে ইরানের ইসলামিক বিপ্লব সম্পর্কে একটা সাদামাটা প্রতিবেদন তৈরি করে নিজের অনুসন্ধান শেষ করেননি লেখক। তিনি সময়ের ভেতর প্রবেশ করেছেন, টেনে বের করে এনেছেন স্বৈরশাসকের মনস্তত্ত্ব। একজন স্বৈরশাসক মনে করে, শুধু আমি থাকলে সবাই টিকে থাকবে। রুশ লেখক মিখাইল শিশকিন বলেছিলেন, দুনিয়ার সব স্বৈরশাসকের মনস্তত্ত্ব একই। তারা মনে করে আমি চলে গেলে পৃথিবীটাকে আমার সঙ্গে চলে যেতে হবে। কাপুসচিন্সকি এই বইয়ের মাধ্যমে আমরা ইরানের শাহ এবং তার বিরোধী ও উত্তরসূরিদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারি, ঢুকে পড়ি বিপ্লবের পরিবেশে এবং একটি বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার বিভিন্ন কারণ আর বিপ্লব-পরবর্তী সমস্যাগুলো বুঝতে শুরু করি।