বিরহের অদৃশ্য সূত্রে যে আত্মজৈবনিক জারণ তার পরতে পরতে বিষাদলীলা। আর এ লীলার সমান্তরালে লীন হয় আত্মানুসন্ধানের সুর। যেখানে স্বরচিত রঙের ভূমিকায়, পাতার রূপকে আঁকা জীবননন্দন। না প্রেম, না প্রকৃতি, না বিরহ, না বিষাদ- কোথাও নেই সহজ মর্মর, অথচ সব মর্মই সহজিয়া।
কবি কুমকুম দত্তের নতুন কবিতাগ্রন্থ ‘সবুজ পাতার বিষাদ’ এমনই এক বিষাদসিন্ধু, যার মৌন শব্দের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিরহেরই কারবালা। যেন প্রেমে মরমিয়া এ কবি আশা-নিরাশা-জিজ্ঞাসার সাপলুডু খেলতে খেলতে আমাদের অভিজ্ঞতায় যোগ করেছেন এক মরমি ভ্রমণ। তাঁর কবিতারূপী অমৃত বিষাদে ডুবতে ডুবতে আমরাও বিরহডুবুরি!
কুমকুম দত্তের কবিতার ভাষা ঝরনার মতো স্বচ্ছ ক্যারিশমাটিক, আপাত প্রাণবন্ত, কিন্তু তলদেশে তার গভীর চিন্তার পাথর। বর্ণের শব্দমাল্যে কবি সাজিয়েছেন নির্জনতার অর্ঘ্য, প্রেমের দক্ষিণা, প্রকৃতির অনন্ত স্মৃতি আর অস্তিত্বের ধী। তার কবিতার পঙক্তিতে ধ্বনিত হয় পাতার ওঙ্কার- যা ছকে ছকে সংলাপ, জপে জপে বিলাপ; অসুখের ঋণভূমে সুখ-অভিশাপ। সময় ও স্মৃতির মূলচুমে বাক্যে-চরণে কবি এঁকেছেন মানবমনের অন্তর্গূঢ় বেদনার সংবেদ।
‘সবুজ পাতার বিষাদ’ কেবল একটি কবিতার বই নয়; এটি অন্তর্লীন যাত্রার এমনই এক দলিল, যেখানে প্রত্যেক পাঠকের জন্য অপেক্ষা করছে আত্মভ্রমণের কোনো না কোনো আলো-ছায়া জারিত মুহূর্ত।
সালেহ রনক
কবি, গল্পকার ও কথাসাহিত্যিক