‘সেরা ভূতের গল্প’―নাম শুনলেই যেন এক অদৃশ্য দরজা খুলে যায় অন্ধকারের দিকে, যেখানে অপেক্ষা করছে ভয়ের উত্তেজনা, রহস্যের কুয়াশা আর অজানা সব ছায়া।
এই অসাধারণ সংকলনে স্থান পেয়েছে উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে একবিংশ শতকের প্রায় শেষভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত সময়ের ৬০ জন খ্যাতিমান লেখকের ৬০টি নির্বাচিত ভূতের গল্প―বাংলা ভূত―সাহিত্যের এক বিশাল, রোমাঞ্চকর মহাভান্ডার।
লালবিহারী দে, ত্রৈলোকনাথ, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বিভূতিভূষণ, হেমেন্দ্রকুমারের হাতে যে ক্লাসিক ভয় ও রহস্যের ভিত্তি নির্মিত হয়েছিল, তারই বিস্তৃতি পাওয়া যায় সত্যজিৎ রায়, আশাপূর্ণা দেবী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু, হুমায়ূন আহমেদ, সমরেশ মজুমদার, হাসান আজিজুল হকসহ আধুনিক ও সমকালীন লেখকদের গল্পে। সময় বদলে গেছে, গল্পের ভঙ্গি বদলেছে, কিন্তু ভূতের মোহ―তা আজও অটুট, একই রকম শিরশিরে।
এই বইয়ের প্রতিটি গল্পই যেন একেকটি নতুন দরজা―এক দরজার ওপারে হিমশীতল নিঃশ্বাস ফেলতে থাকা ভয়াল ছায়া, অন্য দরজায় দুষ্টু ভূতের দারুণ কাণ্ডকারখানা, আরেক দরজা খুললেই মায়াবী রহস্যে মোড়া পুরনো বাড়ি, নদী, জঙ্গল কিংবা জনশূন্য রাস্তা।
কোথাও ভয় অন্ধকারের মতো ঘন, কোথাও হাসি আলোছায়ার মতো হালকা, কোথাও গভীর মানবিকতার ছোঁয়া―এমনভাবে গল্পগুলো বোনা যে পাঠক বুঝতেই পারবেন না কোন আকর্ষণে তিনি পাতার পর পাতা উলটে চলেছেন।
পাঠক এখানে খুঁজে পাবেন―হৃদস্পন্দন বাড়ানো ভয়, অপ্রত্যাশিত রহস্য, হাসির আড়ালে লুকোনো চমক, ছায়ার ভেতর লুকানো দার্শনিকতা। আর আছে এমনসব ভূত―যাদের আচরণ মানুষকেও লজ্জায় ফেলতে পারে।
‘সেরা ভূতের গল্প’ কেবল একটি সংকলন নয়―এ এক দীর্ঘ ও শিহরনময় সাহিত্যযাত্রা। পাহাড়ের কুয়াশা, নদীর স্রোত, রাতের নির্জন রাস্তা, পুরনো দালানের অন্ধকার ঘেরা সিঁড়ি―সব মিলিয়ে এই বই আপনাকে নিয়ে যাবে এমন এক জগতে, যেখানে পড়া শেষ হলেও গল্পগুলো থেকে যাবে মনে, আর মনে হবে―ছায়াটা ঠিক পিছনেই নড়ল কি?