ঘড়ির দিকে তাকালাম- আটটা বাজতে দেরি ছিল, আরো মিনিট-পনেরো অপেক্ষা করা যেত। তবু গেট খুলে পেট্রলপাম্প গুছিয়ে রাখলাম। সাতসকালেও দু-একখানা গাড়ি তেল নিতে আসে। হঠাৎ পেছন থেকে বহু পুরোনো মেশিন চালু হওয়ার যান্ত্রিক শব্দের মতো কর্কশ শব্দ আমার কানে ভেসে এলো। আর শব্দটা যেন মাটির নিচ থেকে আসছে। কারখানাঘরের দরজাটা প্রায় নিঃশব্দে খুলতেই চমকে উঠতে হলো-আরে, ওটা কী ঘুরে বেড়াচ্ছে অন্ধকারে? ভূত নাকি? পরনে হাঁটু ছুঁই ছুঁই স্কার্ট, নীল রঙের আলগা আলখাল্লা। বিরাট দেহ, কম করেও চোদ্দ স্টোন ওজন তো হবেই। ভালো করে দেখতেই চিনতে পরলাম-এ যে আমাদেরই পরিচারিকা ম্যাটিলডা স্টস।
হিপোপটেমাসের একটা মিনি সংস্করণের কাণ্ডকারখানা দেখছিলাম। দরাজ গলায় যুদ্ধের গান গাইছিল সে তখন। জানালার ধারে বেঞ্চের উপর দুটি কোনিয়াকের বোতল, একটিতে সামান্য তলানি পড়ে রয়েছে। কাল রাতে দুটিই ভর্তি ছিল, বাক্সবন্দি করতে ভুলে গিয়েছিলাম।
রীতিমতো ঝাঁঝালো গলায় হাঁক দিলাম, 'এসব কী হচ্ছে ফ্রাউ স্টস?' সঙ্গে সঙ্গে গান থেমে গেল। তার হাত থেকে ঝাঁটাটা খসে পড়ল, তার মুখের সেই মিষ্টি হাসিটি এবার উধাও হয়ে গেল নিমিষে।